ফাইল চিত্র
- Advertisement -

কলকাতা:  পুরোদমে ব্যাংক চালু করার আগে নতুন লোগো প্রকাশ করল বন্ধন ব্যাংক। লোগোতে শোভা পাচ্ছে প্রথাগত ভারতীয় প্রদীপ। বাঙালি উদ্যোগপতি চন্দ্রশেখর ঘোষের হাত ধরেই নয়া এই প্রতীকের উন্মোচন ঘটে আজ বৃহস্পতিবার। শুধু বাঙালি উদ্যোগপতি হিসাবেই নয়, বাঙালিকে জগতসভায় প্রতিষ্ঠিত করতেও দৃঢ়প্রতিজ্ঞ চন্দ্রশেখরবাবু। ঘটনাচক্রে দেশ স্বাধীন হওয়ার পর রাজ্যে এই প্রথম কোনও ব্যাংক তৈরি হতে চলেছে৷ এদিন এই  ব্যাংকের প্রথম বোর্ড মিটিং এর পর  ডিরেক্টরদের নামও ঘোষিত হয়েছে৷ আর দেখা গিয়েছে,  পরিচালনমণ্ডলীতেও রয়েছে বাঙালি প্রাধান্য। ১০ সদস্যের বোর্ডে ছয়জনই বাঙালি।

 ব্যাংকের প্রতীকটিতে গাঢ় লাল বলয়ে সাদা প্রদীপের শিখা তুলে ধরেছে বিজ্ঞাপন সংস্থা ওগিলভি অ্যান্ড ম্যাথারের৷বিজ্ঞাপন সংস্থার কর্তা পীযূষ পাণ্ডে জানিয়েছেন, এই লাল রং শুভর প্রতীক এবং এই প্রদীপেরশিখা নতুন আশা, নতুন দিনের ইঙ্গিত বহন করছে৷ ব্যাংকের চেয়ারম্যান হচ্ছেন অশোক কুমার লাহিড়ি৷ তিনি এক সময় ছিলেন ভারত সরকারের মুখ্য অর্থনৈতিক উপদেষ্টা৷ তাছাড়া এই বাঙালি অর্থনীতিবিদের এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের এগজিকিউটিভ ডিরেক্টর এবং আন্তর্জাতিক অর্থ ভাণ্ডার ও বিশ্বব্যাঙ্কের উপদেষ্টা হিসাবেও কাজ করার অভিজ্ঞতা রয়েছে ৷ বোর্ডে একমাত্র মহিলা সদস্যা নাবার্ডের পূর্বাঞ্চলীয় চিফ জেনারেল ম্যানেজার টি এস রাজি গাইন৷
বন্ধনকে খুব অল্প সময়ের মধ্যে জনপ্রিয় করে তুলতে একাধিক পদক্ষপ নিতে চলেছে কর্তৃপক্ষ। প্রাথমিকভাবে দেশজুড়ে ব্যাংকের প্রায় ৬০০টি শাখা খোলা হবে । এর মধ্যে রাজ্যে ১৪৭টি এবং কলকাতাতেই খোলা হবে ৩৮টি শাখা। প্রথম পর্যায়ে ২৫০টি এটিএম খোলার পরিকল্পনাও নিয়েছে বন্ধন ব্যাংক। চন্দ্রশেখরবাবু জানিয়েছেন, প্রতি বছর প্রায় ৩০ শতাংশ হারে ব্যবসা বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা নিয়েছেন তাঁরা। সাধারণ মানুষের সুবিধার জন্য বায়োমেট্রিক (বুড়ো আঙুলের ছাপ ব্যবহার করে) পদ্ধতিতে অ্যাকাউন্ট খোলার পদ্ধতি চালু করবে বন্ধন। এ জন্য ব্যাংকের শাখায় শাখায় ছোট ছোট যন্ত্র রাখা হবে। সেখানেই আঙুলের টিপছাপ দিয়ে অ্যাকাউন্ট খুলে লেনদেন করা যাবে।ব্যাংক শুরু করতে যেখানে ন্যূনতম ৫০০ কোটি টাকা মূলধনের প্রয়োজন সেখানে তুলনায় অনেক বেশি ৩ ,২০০ টাকা মূলধন নিয়ে বন্ধন ব্যাংক আত্মপ্রকাশ করছে ৷ যেহেতু রিজার্ভ ব্যাংকের নিয়ম অনুসারে, কাজ শুরুর তিন বছর অর্থাৎ ২০১৮ সালে শেয়ার বাজারে নথিভুক্ত করার সুযোগ আসবে তাই তখনই সুবিধা মত সেই সুযোগ কাজে লাগাতে চান বলে ইঙ্গিত দিয়েছেন চন্দ্রশেখরবাবু ৷ ব্যাংকের লাইসেন্স পাওয়ার পর থেকে এখনও পর্যন্ত ৮,০০০ নতুন কর্মসংস্থান হয়েছে যার মধ্য একেবারে বিভিন্ন ব্যাংক থেকে আনা হয়েছে প্রায় ৮৫০ জনকে৷ তাছাড়া বন্ধন মাইক্রো ফিনান্সের বেশ কিছু পুরনো কর্মীদের ব্যাংকের কাজে লাগতে প্রয়োজনীয় প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে৷ ফলে আপাতত এই ব্যাংকের শাখায় অন্তত একজন প্রাক্তন ব্যাংক কর্মীর পাশাপাশি কয়েকজন মাইক্রোফিনান্স কর্মীদেরও পাওয়া যাবে৷ আগামী দু-তিন বছরে আরও ৩০০০ নতুন নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে সংস্থাটির৷

বন্ধনের নতুন লোগো। ছবি-মিতুল দাস।
বন্ধনের নতুন লোগো। ছবি-মিতুল দাস।
- Advertisement -

গ্রাহকদের সুবিধার জন্য ব্যাংক অ্যাকাউন্ট খোলার ক্ষেত্রে ন্যূনতম ব্যালেন্সের সীমার ক্ষেত্রে শিথিলতা থাকবে। অর্থাৎ তেমন তেমন ক্ষেত্রে জিরো ব্যালান্সেও অ্যাকাউন্ট খোলার সুবিধা থাকছে। বর্তমানে যেসব গ্রাহক বন্ধন ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেসের অধীনে লেনদেন করেন, তাঁদেরও নতুন ব্যাংকের পরিষেবার আওতায় আনা হবে। প্রথম বছরে এক কোটি অ্যাকাউন্ট খোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানিয়েছেন চন্দ্রশেখরবাবু।
আগামী মাসে  ২৩ আগস্টে এই ব্যাংকের আনুষ্ঠানিক সূচনা করবেন রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখোপাধ্যায়। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে।অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন শেয়ার বাজার নিয়ন্ত্রক সেবি এবং বিমা নিয়ন্ত্রক আইআরডিএ-র চেয়ারম্যানরাও।